বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

ইউপি নির্বাচন: জামানত ৫ গুণ ও ব্যয় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ পাঁচ গুণ এবং সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় দেড় দশক পর স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরে আর্থিক কাঠামো ও নির্বাচনি বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলো।

কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিদ্যমান বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে ব্যক্তিগত ও নির্বাচনি ব্যয় মিলিয়ে মোট সাড়ে ৫ লাখ এবং সদস্য পদে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল। নতুন প্রস্তাবে ব্যক্তিগত ও নির্বাচনি খরচ আলাদা না রেখে একীভূত করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের পুরোনো শর্তের পরিবর্তে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় করণিক বিষয়সহ মোট ২১টি সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া এই বিধিমালায় এর আগে পরিবর্তন এলেও জামানত ও ব্যয়ের অঙ্ক এবারই প্রথম বাড়ানো হচ্ছে।

প্রস্তাবিত অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের হুমকি বা বাধাদানে কঠোর শাস্তির বিধান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তার প্রক্রিয়া স্পষ্টকরণ, আচরণবিধি তদারকি কমিটি গঠন, অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে ফলাফল স্থগিত ও পুনর্ভোট গ্রহণের ক্ষমতা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম এই উদ্যোগকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে জানান, বর্তমান বাস্তবতায় টাকার মূল্যমান হ্রাসের কারণে জামানত ও ব্যয় বাড়ানো যৌক্তিক। তবে এলাকায় গ্রহণযোগ্য অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রার্থীরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কমিশনের কঠোর নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com